আজ সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০ || ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সোমবার, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৯   |   sonalisandwip.com
.

ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে সারাদেশেই প্রচুর পাকা দালান নির্মিত হচ্ছে। সার্বিক সুবিধা বিবেচনায় মানুষ এখন কাঠ, টিনের ঘরের বদলে ইট, সিমেন্টের ঘর বানাচ্ছে। ফলে বেড়ে গেছে ইটের চাহিদা। বাংলাদেশে সাধারণত জমির উপরিভাগের মাটি পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হয়। ফলে এতে পরিবেশের নানামুখী ক্ষতি হচ্ছে। ইট নির্মাণ হয় জমির উপরিভাগের মাটি দিয়ে, যেই মাটি ফসলের জন্য উর্বর। এছাড়া ইট নির্মাণে পোড়ানো হয় কাঠ। ফলে একদিকে অক্সিজেন উৎপাদক গাছ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইটের ভাটা থেকে বিষাক্ত কার্বন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। এতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। তাই পরিবেশ ও জলবায়ুর কথা বিবেচনা করে সব ইটভাটা বন্ধের দাবি উঠেছে পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়টিকে সামনে রেখে ইটের বিকল্প ও ব্যয় সাশ্রয়ী নির্মাণ উপকরণ নিয়ে যশোরের শহরতলীর পালবাড়ি (কবরস্থানের পাশে) এলাকায় এইএন নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কারখানায় তৈরি করছে কংক্রিটের ব্লক।

ব্লক তৈরি এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী সিঙ্গাপুর প্রবাসী মামুন-অর-রশিদ জানান ইটের ভাটা থেকে বিষাক্ত কার্বন গ্যাসে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি জলবায়ুর কথা বিবেচনা করে ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিটের ব্লক তৈরির বিষয়টি তার মাথায় আসে। সেই লক্ষ্যে ভারত থেকে ব্লক তৈরির মেশিন ক্রয় করে যশোরের নিয়ে আসেন। ব্লক তৈরি করার পর পরীক্ষামূলকভাবে নিজের তিনতলা বাড়ির পাশাপাশি একটি একতলা বাড়িও তিনি কমপ্লিট করেন।এই ব্লক দামেও অনেক সাশ্রয়ী ।একটি বাড়ি তৈরি করতে যদি ১৫ হাজার ইট লাগে, সেখানে কংক্রিটের ব্লক লাগবে ৩ হাজার। অর্থ্যাৎ ব্লক দিয়ে বাড়ি নির্মাণে ৩০ শতাংশের উপরে টাকা সাশ্রয় হয়। একটি বাড়ি নির্মাণে যদি এক লাখ টাকার ইট লাগে, সেটা ব্লক দিয়ে ৭০ হাজার টাকায় করা যাবে। এছাড়া এই ব্লকের মাঝখানে ফাঁকা থাকে বলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এসি ঘরের মতো। আর প্লাস্টার খরচও খুব কম। ইলেকট্রিক ওয়্যারিং করতেও কষ্ট কম হয়।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, যশোরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ইটের ভাটায় ইট পোড়ানোর সময় যে কালো ধোয়া নির্গত হয়, সেটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু এই ব্লক তৈরি করলে নো বার্ন, নো কার্বন। ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশে গ্রিন টেকনোলজি করতে গেলে ইটের বিকল্প কংক্রিটের ব্লক ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। তাই সকলকে ইটের পরিবর্তে এই কংক্রিটের ব্লক ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।