আজ রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ || ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ রবিবার, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১   |   sonalisandwip.com
“প্রশ্রয় নয় বিচার চাই”

আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন

অন্যায়কে কখনও ঢাকতে বা প্রশ্রয় দিতে নেই । কারন একটি অন্যায় ঢাকা, বিলম্বে বিচার কার বা বিচার না হওয়া আরেকটি অন্যায় । একই সাথে এতে অন্যান্য অন্যায়কারীরা উৎসাহ পায় দিনে দিনে তা বৃদ্ধি পায় । ফলে সমাজে অন্যায় বৃদ্ধি পেয়ে অস্থির সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় । সেই সমাজে সুশাসন বিলুপ্ত হয় । সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আজ আপনার সন্তানের অন্যায় ঢাকতে চাইছেন নিজের সম্মানের ভয়ে, কিন্তু আগামীকাল আপনার ঐ সন্তান এর চেয়েও বড় অপরাধ করবে এবং অন্যান্য সন্তানরাও অন্যায়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আপনাকে এখনকার চেয়েও বড় অসম্মানে ফেলে দিতে পারে । আর আজকের অন্যায়ের বিচার করলে হয়ত কিছু লোক সাময়িক আপনার কিছু নিন্দা করবে, কিন্তু বেশিলোক আপনার প্রশংসা করবে । একই সাথে আপনার স্বচ্ছতার জন্য, ন্যায় বিচারপরায়ণতা আপনাকে অনেক বড় সম্মানের আসনে আসীন করে দেবে । আর এর চেয়ে সম্মানের আর কিছু হতে পারে না । পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকার জন্য এমন কৃতিত্বই আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে ।

আপনাকে যদি কেউ অন্যায়ের সংবাদ জানায় তাকে অপদস্ত, তিরস্কার না করে অভিনন্দন জানান । কারন সে আপনাকে ছোট অবস্থায় আপনার সন্তানের অন্যায়ের সংবাদ জানিয়ে বড় এবং বেশি অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষার প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে । আর আপনার এমন সংবাদ পাওয়ার কারনে যদি তাকে অপমান, অপদস্ত, তিরস্কার হতে হয় তবে মানুষ যেমন বুঝতে পারবে এমন অন্যায়ে আপনার সমর্থন আছে, এমন অপরাধ থেকে আপনিও সুবিধা ভোগ করছেন । তেমনি আপনাকে কেউ এমন অন্যায়ের, অপরাধের সংবাদ দিতে সাহস করবে না । তখন হয়ত একদিন আপনাকে এর চেয়ে অনেক বেশি বিপদে পরতে হবে । কারন তার একার অন্যায় যেমন আরও ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করতে পারে এবং তার দেখাদেখি অন্য আরও অনেক অপরাধী বৃদ্ধি পেতে পারে, তখন হয়ত আর এমন অন্যায় অপরাধের প্রতিকারের সুযোগ থাকবে না । পরবর্তীতে আপনাকে হয়ত আমাদের জাতির পিতা বঙ্গ বন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের মত বলতে হবে “পাকিস্তান আমাদের সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে, রেখে গেছে দুর্নীতিবাজ আমলাদের”/ “সারা বিশ্বের সবাই পায় সোনার খনী আর আমি পেয়েছি চোরের খনী” ইত্যাদি ।

আমাদের সমাজ অন্যায়ের ঊর্ধ্বে নয় । বিশেষ করে মানুষের জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সাতটি দোজখ এবং আটটি জান্নাত । আর এগুলো জীন এবং মানুষ দিয়েই পরিপূর্ণ করার ওয়াদা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ নিজে । কিন্তু আমাদের এমন স্বভাবের মানুষগুলোকে সঠিক পথ দেখানোর দায়িত্ব আমাদের বাবা মায়ের, আত্মীয় স্বজনের, প্রতিবেশির, কর্মকর্তার, রাজনৈতিক নেতার । তাতে হয়ত দোজখে যাওয়ার সম্ভাবনাময় কিছু মানুষও জান্নাতের পথে ফিরে আসতে পারে । ফলে আমাদের উচিত আমাদের সন্তানের, আত্মীয় স্বজনের, প্রতিবেশির, কর্মকর্তার, রাজনৈতিক নেতার অন্যায় অপরাধের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা । তা না করে তাকে ঢাকার, প্রশ্রয় দেয়া মারাত্মক হুমকীর মত । যা পরবর্তীতে আরও জঘন্য অন্যায়, অপরাধের আকার ধারন করতে পারে । কারন আল্লাহ অন্যায়কারীকে ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যখন সে আর আপন পর, পরিবার, আত্মীয় স্বজন, সমাজ, দেশ, কর্মকর্তা, নেতা-নেত্রী ইত্যাদি মুল্যায়ন করতে পারে না । এক সময় আল্লাহ নিজেই তাকে ধ্বংস করে দেন । আল্লাহ কাউকে ধ্বংস করার আগে যদি মানুষ তাকে বাচাতে পারে তা অনেক উত্তম কাজ ।

সুতারাং আমাদের সকলের উচিত আমাদের পক্ষে সংশোধন করা সম্ভব এমন অন্যায়, অপরাধকারী পেলে তাকে যথাযথভাবে সংশোধন করা । অন্যায়কারীকে পরিবার, সমাজ, দেশ, মানুষ বয়কট করা উচিত । কারন সে আমাদের সমাজের, দেশের ঘুনো পোকাতে পরিণত হয়েছে । অপর দিকে আমরা যদি অন্যায়কারী, অপরাধীর অঢেল টাকা আর বিত্ত সম্পদের পুজা করি তবে তারা আরও অন্যায় অপরাধী হয়ে আরও টাকা আর বিত্ত সম্পদ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠে । সমাজে সৎ মানুষের মুল্যায়ন হলে অসৎ মানুষ ঘৃণিত হলে নিশ্চয় অপরাধীরা বৃদ্ধি পাবে না, বরং হ্রাস পাবে । আর সেই আদর্শ আপনাকেই সৃষ্টি করে মানুষকে সাহস দিতে হবে । তাহলে মানুষ আপনার প্রতিকারের হাতকে আরও সুসংহত, দৃঢ় ও শক্তিশালী করে তুলবে । এমন অপরাধীরা প্রশাসনের, বিচারের, রাজনীতির সহায়তায় অপরাধী হয়ে উঠে এবং এক সময় তারা বিত্ত সম্পদের মালিক হয়ে সমাজকে শাসন করতে শুরু করে । মোট কথা কোন না কোন ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠে । তাই অভিভাবকের কাছ থেকেই প্রতিকার শুরু হওয়া অত্যন্ত জরুরী ।

ইতিহাস বলে বিশ্বে, দেশে, সমাজে এবং পরিবারে অন্যায় অপরাধ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে । এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি । তাই অন্যায়ের সন্ধানদাতাকে উচিত সম্মান জানানো, উৎসাহ প্রদান করা, সাধুবাদ জানানো । তাহলে আমার, আপনার, সবার পরিবারের মানুষগুলো ভাল থাকবে, অন্যায় করার সাহস পাবে না । ভবিষ্যৎ মানুষ আপনার ন্যায়পরায়নতার জন্য প্রশংসা করবে, আপনার উপর আস্থা রাখতে সাহস পাবে, ইতিহাসের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারেন । তাতে আপনার, পরিবারের, সমাজের, দেশের এবং মানুষের কল্যাণ হবে । এমন প্রতিকারে আপনার মত অভিভাবকের তেমন ক্ষতি হবে না, কারন অন্যায়কারী বিচারকের কোন ক্ষতি করতে পারে না । অন্যায়কারী সব সময় দুর্বল । আর একজন অন্যায়কারীকে যদি আরও কেউ সমর্থন কিংবা বাঁচানোর চেষ্টা করে, তবে আপনার বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয় যে সেই অপরাধীর শিকড় বিস্তৃত হতে শুরু করেছে । তা একদিন অন্যায় আর অপরাধের মহীরুহ হয়ে উপস্থাপন হতে পারে । সেদিন কারও কিছু করার থাকবে না । এমন নজির পৃথিবীতে অনেক রয়েছে, যা আপনার চেয়ে বেশি আর কেউ জানে না।