আজ রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪ || ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ রবিবার, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪   |   sonalisandwip.com
জনবল সংকটে হাহাকার সন্দ্বীপের স্বাস্থ্য বিভাগ, বিঘ্নিত প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা

রিদুয়ানুল বারী;;সোনালী সন্দ্বীপ:: দেশের মুল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপ যা বর্তমানে গোল্ডেন রেমিট্যান্সের দ্বীপ হিসেবে সমাদৃত। এ দ্বীপে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। বর্তমান সরকারের সময়ে নানা উন্নয়নেও কিছু হতাশা স›দ্বীপবাসীকে তাড়িয়ে বেড়ায় স্মার্ট বাংলাদেশের প্রকৃত সাধ প্রাপ্তিতে। এ দ্বীপের মানুষ চর্তুদিকে পানিবন্দী। রাততো দুরের কথা দিনের বেলায় চাইলেও ইমার্জেন্সি রোগী নিয়ে স›দ্বীপের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়।  
দ্বীপবাসীর হাজার প্রাপ্তির ভেতরেও রয়েছে কমপ্রাপ্তির ঢেকুর। দ্বীপের স্বাস্থ্য খাতে জনবল ও আধুনিক ল্যাব আইসিউর অভাবে এখানকার মানুষ যেন জটিল রোগে প্রতিমুহর্তেই আতঙ্কে কাটাচ্ছে। স›দ্বীপের মানুষ এখনো বেশিরভাগ সময় পল্লী চিকিৎসক নির্ভর। সরকারি স্বাস্থ্য বলতে যা রয়েছে নিম্নরূপ: 
সন্দ্বীপের মুল চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে স›দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাছুয়া। যা আগে ছিল ৩১ শয্যার। বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী হিসেবে (উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ১ জন কর্মরত, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১ জন কর্মরত, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থিসিয়াসিষ্ট ১জন কর্মরত, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী ১জন শূন্য পদ পদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন ১জন কর্মরত, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী ১ জন শূন্যপদ, মেডিকেল অফিসার ২জন ১জন শূন্য পদ এবং ১জন ডেন্টাল সার্জন কর্মরতসহ মোট ৯জন রয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ ডাক্তাররা প্রায় বাইরে থাকেন। এদিকে স›দ্বীপ ১০শয্যা হাসপাতালে রয়েছে ২টি মেডিকেল অফিসার পোস্ট যার ১টি শূন্য। যিনি কর্মরত আছেন তাকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিফটিং ডিউটি করতে হচ্ছে।
স›দ্বীপে রয়েছে ৩টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র: 
(১) দক্ষিণ সন্দ্বীপ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র যেখানে ১টি মেডিকেল অফিসার পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি শূন্য পদ রয়েছে। ফলে দক্ষিণ স›দ্বীপের মানুষ চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। 
(২) বাটাজোড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্হ্য কেন্দ্র যেখানে ১জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকলেও তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।
(৩) মুছাপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্হ্য কেন্দ্রে ১ টি পোস্ট মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকলেও তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিফটিং দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। 
এছাড়া সন্দ্বীপে ১১ টি স্বাস্থ্য ও প: কল্যান কেন্দ্র রয়েছে যেখানে ১১ টি সহকারী সার্জনের পোস্টে ৩ টি শূন্য পদ রয়েছে। সন্দ্বীপের সবচেয়ে দীর্ঘ ইউনিয়ন মগধরা স্বাস্থ্য ও প: কল্যাণ কেন্দ্রে ১ টি পদে কর্মরত সহ: সার্জন তিনিও তার কর্মস্হলের বাসিন্দাদের সেবা দেয়ার সুযোগ নেই। তাকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। হারামিয়া ২০শয্যা হাসপাতালের দিকে যদি দৃষ্টি দেই সেখানে ৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩জন।
১জন জুনিয়র অফিসার সার্জারি, ১জন জুনিয়র অফিসার গাইনি ১জন সহকারী সার্জন (শূন্য পদ) এখানে যিনি  আর এম ও হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনিও ১০শয্যা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে দেখা গেছে, হারামিয়া ২০শয্যা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গাছুয়াতে নতুন নতুন ভবন থাকলেও এখানে নেই কোনো রোগ নির্ণয় ল্যাব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নব নির্মিত ভবনের মূল ফটকে কক্ষ পরিচিতি বোর্ডে ১০৯নং কক্ষে ল্যাব হিসেবে পরিচিতি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ১০৯ নম্বর কক্ষে দেখা মেলেনি ল্যাবের।
সরকারি টাকায় কেনা আধুনিক এক্সরে মেশিন ধুলো বালিসহ অযতেœ পড়ে আছে পাশের পরিত্যক্ত ভবনের দরজাবিহীন কক্ষে। ২০শয্যায় ও ৫০শয্যা হাসপাতালে পড়ে আছে দামি দামি অ্যাম্বুলেন্স যা কখনো রোগীদের দেখা পায়নি। সরকারী নিয়োগকৃত  ড্রাইভারের এ গাড়িগুলো  সন্দ্বীপের মানুষের কোনো কাজে আসছেনা।
স্বাস্থ্য খাতে এত নাই এর ভিতরেও ২০শয্যা হাসপাতালে দেখা মিলেছে  আধুনিক "কমিউনিটি আই সেন্টার" নামে একটি সমন্বিত উন্নত চক্ষু চিকিৎসা সেবা। যা স›দ্বীপের মানুষের প্রায় অজানা। এখানে রয়েছে চক্ষু চিকিৎসা ও পরিক্ষার আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন সংযোজন যা স›দ্বীপবাসীর জন্য নতুন এক প্রাপ্তি। এখানে সন্দ্বীপের মানুষ  মাত্র ৩টাকায়  একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অপটিক্যাল  নার্সের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। স›দ্বীপের মানুষকে এখন থেকে আর ভ্রাম্যমান কোয়াক চক্ষু শিবিরের দ্বারা প্রতারিত হতে হবেনা।
স›দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মানস বিশ্বাস বলেন, সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা রয়েছে তাছাড়া স›দ্বীপের সাংসদও স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে জিরো টলারেন্স। কিন্তু নিয়োগ দেয়ার পর স›দ্বীপে ডাক্তাররা থাকতে চান না। নানা কারণে তারা তদবির করে উপজেলা থেকে বদলী হয়ে যান। তিনি বলেন, আমরা নতুন নিয়োগে ১৪ জন স্বাস্থ্য সহকারী পেয়েছি। স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারনে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে উর্দ্ধতন মহলে বিভিন্ন বিষয়ে দাবি দিয়ে আসছি আশা করছি কিছু কিছু সমস্যা অচিরেই সমাধান হবে। 
তিনি বলেন, সরকারি ভাবে একজন ড্রাইভার পেলে অন্তত: রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া যেতো। চিকিৎসকগন সব সময় হাসপাতালে থাকেনা রোগীদের এমন অভিযোেেগর বিষয়ে টিএইচের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ডিউটি সিডিউলতো আপনাদেরকে দিলাম রোগীরাতো আর অত কিছু বুঝতে চায় না। আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিতরেই আমরা যথাসম্ভব  সেবা দিয়ে যাচ্ছি।