আজ বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট, ২০২১ || ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১   |   sonalisandwip.com
সন্দ্বীপের উড়িরচর ইউনিয়নে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে প্রশাসনকে দায়ী করা হবে- সন্দ্বীপ নদী সিকস্তি পুনর্বাসন সমিতি

আজ সন্দ্বীপের (দ্বীপ ইউনিয়ন) উড়িরচরে 'প্রতিবাদ সমাবেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৫৫ সালের জেলা গ্যাজেট অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলাকে ৬০৩ বর্গমাইল পরিবেষ্টিত এলাকা বুঝিয়ে দেয়ার দাবীতে, সন্দ্বীপ নদী সিকস্তি পুনর্বাসন সমিতির ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও উড়িরচর (দ্বীপ) ইউনিয়নকে নতুন (পরিপূর্ন) থানা ঘোষণা করা সহ মহামান্য হাইকোর্টের রুল অমান্য করার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সমাবেশে জোর দাবি জানানো হয়েছে।

১৯৫৫ সালের সরকারি গ্যাজেট অনুসরণ না করে সন্দ্বীপ উপজেলার (দ্বীপ ইউনিয়ন) উড়িরচরকে পার্শ্ববর্তী বামনী নদীর অপর পাড়ের কোম্পানীগন্জ উপজেলার অংশ করার জন্য প্রশাসনের এই হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ নদী সিকস্তি পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাগণ বক্তব্য রাখেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪/৬/২১ ইং উড়িরচরে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উড়িরচরকে দ্বিখন্ডিত করে সীমানা পিলার স্থাপন করে দুই বিভাগের জেলা ও উপজেলার মধ্যে দ্বিখণ্ডিত উড়িরচরের প্রশাসনিক বিভাজন করে প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে ও নিতে আসবেন। সন্দ্বীপ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সহকারি কমিশনার (এসি ল্যান্ড দ্বয়) বিশেষ করে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

স্থানীয় জনগণের মতামতের উপর তোয়াক্কা না করে, ১৯৫৫ সালের গ্যাজেট ও মহামান্য হাই কোর্টের রুলকে অমান্য করে কর্মকর্তাগণ সন্দ্বীপের উড়িরচর (দ্বীপ) ইউনিয়নে আসার ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করেছিলেন। তবুও বিশস্ত সূত্রে প্রকাশ যে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিভিল প্রতিনিধিগণ পুলিশের সহযোগিতায় ও নিরাপত্তায় উড়িরচরে এসেছিলেন।

উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাগণ বলেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের এহেন একতরফা কর্মের বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ ও উড়িরচরবাসি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাছাড়াও দেশের আদালতে ও হাই কোর্টে রিট করা হয়েছে। সন্দ্বীপের (উড়িরচর, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচরের) পক্ষে আদালতের (ডিক্রি) ও মহামান্য হাই কোর্টের রুল থাকা সত্ত্বেও কিসের বা কার ইঙ্গিতে সরকারি কর্মকর্তাগণ এহেন অবাস্তব ও বেআইনি কর্মকান্ড করছেন। এই সব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি বহুদিন ধরে। প্রশাসন স্থানীয় জনগণের দাবি ও সন্দ্বীপের ১২ লক্ষ জনগণের মধ্যে ৮ লক্ষ নদী সিকস্তি জনগণের দাবির প্রতি কর্ণপাত করছেন না। ফলে এই এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে প্রশাসনকে দায়ী করা হবে।

উক্ত প্রতিবাদ সভা থেকে আরো উদাত্ত্ব আহবান জানানো হয় যে, সন্দ্বীপবাসি যে যেখানে থাকুন না কেন, নিজ মাতৃভূমির ভালোবাসায় ও দেশ প্রেমে সিক্ত হয়ে এই প্রশাসনের এহেন বৈষম্যমুলক, বেআইনি কর্মের বিরুদ্ধে ও সন্দ্বীপবাসীর ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১২ লক্ষ সন্দ্বীপবাসি গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

সন্দ্বীপের উড়িরচর ইউনিয়নের জনতা বাজারে সন্দ্বীপ নদী সিকস্তি পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে জনাব হোসেন মাঝির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন (সর্বজনাব) সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ মোস্তফা, এ কে এম হুমায়ুন কবির চৌধুরী মাসুদ, ভার্চুয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দেন সন্দ্বীপ নদী সিকস্তি পুনর্বাসন সমিতির আহবায়ক শিব্বীর আহমেদ তালুকদার, সদস্য সচিব ও হাই কোর্টে রিটকারি মনিরুল হুদা বাবন, সদস্য নুরুল আকতার প্রমুখ।

- সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।