আজ শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ || ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ শনিবার, ০৯:১১ অপরাহ্ন
মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩   |   sonalisandwip.com
সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌরুটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

কেফায়েতুল্লাহ কায়সার ::

সন্দ্বীপ চট্টগ্রামের একটি দ্বীপ উপজেলা হলেও বাংলাদেশের মানচিত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। বর্তমানে সন্দ্বীপে মোট ভোটার ২,৩৯,৬১০ জন। আর জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এই জনগোষ্ঠী বা সন্দ্বীপের সব চেয়ে বড় ২টি সমস্যা হচ্ছে যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। সরকারী-বেসরকারী কিছু হাসপাতাল থাকলেও এসব থেকে মানুষ খুব বেশি উপকৃত হচ্ছে না।
সরকারী হাসপাতাল চলে দায়-সারাভাবে। আর বেসরকারী হাসপাতাল সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সম্ভব হচ্ছে না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে। তারপরও বেসরকারীভাবে কিছু সেবা পাচ্ছে মানুষ।  
সরকারী চিকিৎসক ও সরকারের আন্তরিকতা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হলে চিকিৎসার কিছুটা অভাব পূরণ হবে  দ্বীপবাসীর।
দ্বীপের চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে বহু দ্বীপবাসীর চট্টগ্রাম যাতায়াতে মাঝ সাগরে ও গাড়িতে জীবন অবসান ঘটে।
সবকিছুর মূলে যে বিষয়টি আজকে আমার বিষয়বস্তু তা হলো হাজার বছরের সন্দ্বীপের যাতায়াত দূরাবস্থা।
যাতায়াতের চরম দুরাবস্থার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স›দ্বীপ যেতে ও থাকতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। যাদেরকে সন্দ্বীপ পোস্টিং করা হয় তারা আবার কয়মাস পর তড়িগড়ি করে ট্রান্সপার নিয়ে চলে যায়। এমনকি সন্দ্বীপ সন্তান চিকিৎসক যাঁরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত আছেন তাদেরও স›দ্বীপ যেতে আগ্রহ নেই। শুধুমাত্র যাতায়াত দুর্ভোগ, অনিয়মতান্ত্রিক ও অনিরাপদ নৌ-রুট হওয়ার কারণে।
আবার কিছু মানবিক চিকিৎসক যারা সপ্তাহের বন্ধের দিনে দ্বীপের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে স›দ্বীপ যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও যাতায়াতের অসহনীয় কষ্টের ফলে মুখ ফিরিয়ে নেন। এক কথায় সরকারী-বেসরকারী সব চিকিৎসক ইচ্ছা থাকা সত্তেও দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে দ্বীপে যাতায়াত করতে অনিচ্ছুক।
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনহাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরা এক সময়ের জাহাজ ও লবণ শিল্পের অন্যতম উপজেলা সন্দ্বীপ।
হাজার বছরের পুরোনো বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের রয়েছে বিস্তৃত ইতিহাস। শিক্ষা, শিল্প-বানিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্বীপ সন্তানদের রয়েছে নানা অবদান। ঐতিহ্যে ভরা স›দ্বীপে জন্মেছেন সপ্তদশ শতকের বাংলা সাহিত্যের মহাকবি কবি আবদুল হাকিম, সর্ব ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মোজাফ্ফর আহমদ, বিপ্লবী লাল মোহন সেন, জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার একমাত্র বাদী কাজী আব্দুল আউয়ালসহ আরো অনেক দেশপ্রেমিক সূর্য সন্তান।
মিডলইস্ট সহ ইউরোপ-আমেরিকাতে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রমবাজারের উপজেলা ভিত্তিক নেতৃত্বে এই দ্বীপকেই বলা চলে। একটি পরিসখ্যান জানা জানা যায়, শুধু আমেরিকাতে গ্রীনকার্ড নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন লক্ষাধিক সন্দ্বীপবাসী।
বাংলাদেশর ৪৯৫ টি উপজেলার মধ্যে শুধু সন্দ্বীপ উপজেলার মানুষদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখ করার মত। বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে বেশ ভ‚মিকা রাখছে দ্বীপ সন্তান।
অথচ সেখানে সন্দ্বীপের যাতায়াত আজও অনুন্নত। তিনহাজার বছরের এই দ্বীপে এখনো কোনো সরকার নিরাপদ নৌ-রুটের ব্যবস্থা করেনি। এমভি আইভি রহমান নামক একটি জাহাজ থাকলেও মাসে ১৫ দিন থাকে অচল।
মালের বোট, লালবোট ও ঝুঁকিপূর্ণ হালকা মানের স্পীডবোটের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে দ্বীপের মানুষ। আর উঠা-নামায় নিয়মিত মৃত্যু-দুর্ঘটনাতো ঘটছেই।
শুধু তাই নয় উঠা-নামা করার সময় স্থানীয় সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতাও একবার সাগর গর্ভে পড়ে যান। ভাগ্যক্রমে সেই দিন বেঁচে গেছেন তিনি।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ। বিশ্বের দরবারে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে লাল সবুজের এই পতাকা। শেখ হাসিনার অবদানে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে এখন বাংলাদেশ।
অথচ উন্নত হয়নি সন্দ্বীপের নৌ-যাতায়াত। নিরাপদ নৌ-রুট আর নৌ-যানের অভাবে সাগরে ডুবে শলীল সমাধি হচ্ছে দ্বীপের মানুষের। দায়সারাভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই নৌ-রুট। লক্কর-ঝক্কর, ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-যান দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই নৌ-রুট দীর্ঘদিন ধরে। আর উঠা-নামাসহ নানান দুর্ভোগ তো বর্ণনাতীত। অনিরাপদ নৌ-যানের অভাবে ও ঝুকিপূর্ণ ওঠা-নামার কারণে সাগরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে বারবার।
১৯৫৬ সালের ২রা জুনের বাদুরা জাহাজ থেকে শুরু করে ২রা এপ্রিল ২০১৭ সালে ১৮জন এবং ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল ৪ শিশু। এর মধ্যে এক মায়ের তিন কন্যা সন্তানের তিনজনই মারা যায় নৌ-দুর্ঘটনায়। এভাবে ৫৯বছরে দফায় দফায় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। আবার প্রয়াত এমপি মুস্তাফিজুর রহমানের মা-কেও প্রাণ হারাতে হয়েছে এই সাগর যাতায়াত করতে গিয়ে।
কিন্তু আজও সরকারী সংশ্লিষ্ট কোন সংস্থা নিরাপদ নৌ-রুটের কোন প্রকার কোন উদ্যোগ নেয়নি। সরকারী তিন সংস্থা, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা পরিষদ শুধু এই নৌ-রুট থেকে সন্দ্বীপবাসীর নিকট থেকে টাকা আদায় নিয়ে ব্যস্ত। সেবা বৃদ্ধি, নিরাপদ নৌ-রুট, নিরাপদ নৌ-যান ও নিরাপদ ওঠা-নামা নিয়ে আদৌ সংস্থাগুলোর কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। ২রা এপ্রিল ২০১৭ এর পর ভাসমান জেটি ও নতুন জাহাজের দাবী উঠেছিল বার বার। তাও বাস্তবায়ন হয়নি।
২০১৭ সালের ২রা এপ্রিল ১৮ টি ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল ৪টি শিশুর তাজা প্রাণের মত দুর্ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত সরকার তথা সংস্থাগুলো এই নৌ-রুট নিয়ে কোন কাজ বা কোন উদ্যোগই নেয়নি।
ভাসমান জেটি নিয়ে তখন জেলাপরিষদ এর সচিব শাব্বির ইকবালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বেশি স্রোতের কারণে গুপ্তছড়ায় ভাসমান জেটি টিকবেনা তাই তারা স্থায়ী জেটির চিন্তা করছেন। তবে তা কখন কিভাবে হবে তা নিয়ে তখন তিনি স্পষ্ট বলেননি।
অনিরাপদ নৌ-রুট আর কতদিন মেনে নিবে এই দ্বীপের মানুষ। আর কত দ্বীপের সন্তান মর্মান্তিকভাবে ডুবে মরবে সাগরে। এভাবে এসব দুঃখ কষ্ট আর কতদিন।
স্থায়ী টেকসয় ভাসমান জেটি, পল্টুন নির্মাণ ও নতুন নিরাপদ দ্রুতগামী আরামদায়ক নৌ-যান এখন স›দ্বীপবাসীর প্রাণের দাবী।
বাংলাদেশের সব কিছুর অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। আবার সন্দ্বীপেও এখন অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। ইতিহাসের মতে এই দ্বীপের বয়স বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বছর। সেই তখন থেকেই সন্দ্বীপের যাতায়াতের যে দুরাবস্থা ছিল আজও সেই আবস্থাতেই আছে।
আজ থেকে অন্তত ত্রিশ বছর আগেও কিন্তু সন্দ্বীপের যাতায়াতে বর্তমানের মত এত দুরাবস্থা ছিল না। অরাজকতা ছিলনা। ঘাট নিয়ে টানাটানি ছিলনা। বিআইডব্লিউটিসির অধীনে ছিল যাতায়াত ব্যবস্থা। আর যতদিন স›দ্বীপের পুরাতন টাউন বিদ্যমান ছিল ততদিন সন্দ্বীপ টাউন-চট্টগ্রাম সদরঘাট যাতায়াত একটা লম্বা যাত্রা হলেও মোটামোটি কিছুটা আরামদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল সেইকালে। সদরঘাটের মত স›দ্বীপ টাউন ঘাটও ছিল উঠা-নামার জন্য বেশ সুবিধাজনক। আজ ত্রিশ বছর পর উন্নয়নের পরিবর্তে এখন এই যাতায়াত ব্যবস্থা আরো চরম দুরাবস্থায় নেমে এসেছে। দুই পাশের দুই জেটি আছে শো-পিছের মত এসব দিয়ে খুব একটা উপকৃত হচ্ছে না যাত্রীরা। এখন যারা ঘাট ইজারা পায় তারা বনে যায় ঘাট রাজা হিসেবে।
পূর্বে জাহাজে যাত্রা পথে সময় লাগতো ৫-৮ ঘন্টা। এখন ২০মিনিট বা এক ঘন্টায় যাতায়াত সময় লাগলেও এখন সেই লম্বা সময় লেগে যায় টিকেট পেতে। রাতের ৪টায় ঘাটে পৌছতে হয় টিকেট পাওয়ার জন্য। ২০ মিনিট সময়ের ১৫ কিলোমিটার নদী পাড়ি দেওয়ার জন্য সকালে চট্টগ্রামে বা স›দ্বীপে পৌছতে হলে একজন যাত্রীকে রাতের ৪টায় ঘাটে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয় কোনো কোনো সময়। যদি কেউ সকাল ৫-৬টায় ঘাটে আসেন তাহলে তিনি অনিশ্চিত থাকেন সকাল ৯ টার আগে তিনি অফিসে পৌঁছতে পারবেন কিনা।
এই আধুনিক যুগে এবং উন্নয়নের বাংলাদেশের যুগেও এটা যেন একটা আজব কথার মতই মনে হয়। ১৫ কিলোমিটারের ২০ মিনিনেটর পথে সন্দ্বীপ যাতায়াত করতে এখনও সময় লাগে ৫/৭ ঘন্টা। তবে এখন এই ভোগান্তি হচ্ছে ইজারাদারের কারণে। অব্যবস্থাপনার কারণে। আর একজন ইজারাদার হওয়ার কারণে ভোগান্তি আরো চরমে। ঘাট পরিচালনায় প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিযোগী না থাকায় যাত্রীদেরকে গরু-ছাগলের মত ভাষা-ব্যবহার দিচ্ছে ইজারাদারের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। যদি এখানে অনেকগুলো ইজারাদার থাকতো তাহলে এখানে নানা রকমের উন্নত ও দ্রুত নৌ-যান ব্যবহার হত। সেবার মান বাড়তো। যাত্রীদের প্রতি দুর্ব্যবহার কমতো। যাত্রী হয়রানি বন্ধ হত। যাত্রী যখন ইচ্ছা তখন সময় বাঁচিয়ে দ্রুত নৌ-রুট পাড়ি দিতে পারতো।
আর এর জন্য দরকার উন্মুক্ত ইজারা। এই উন্মুক্ত ইজারা বা অনেকগুলো ইজারাদার ছাড়া এই নৌ-পথে কখনো যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে না।
সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌ-রুট যাতায়াত নিয়ে সন্দ্বীপের যাত্রীদের বার বার অভিযোগ, ১৫ কিলোমটিারের নদী পথে ইজারাদার প্রতিজন যাত্রী থেকে ৩৮০ টাকা করে আদায় করে।
জেলা পরিষদকেও এসব বিষয় ভাবা উচিত। তবে বরাবরের মত সকল অনিয়মের বিষয়ে ঘাট ইজারাদার এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন, সাধ্য অনুযায়ী যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং সহযোগিতা করছেন তারা।
ঘাট পরিচালনায় একজন ইজারা প্রথা থেকে সরে আসতে হবে জেলা পরিষদকে। ঘাট ইজারা উন্মুক্ত করে একাধিক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট ফিঃ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-যান পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন এবং সম্পন্নকরণ সাপেক্ষে অনুমতি দিতে হবে। এর ফলে বেশ কিছু আধুনিক নিরাপদ নৌ-যান পরিচালনার সুযোগ পাবে অনেকে। সাথে সাথে এই রুটে একাধিক ব্যক্তির মালিকানায় একাধিক নৌ-যান পরিচালনার সুযোগ হয়ে যাবে। এতে যাত্রীরাও উন্নত সেবা পাবে। আর নৌ যাতায়াতেও হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও ভোগান্তি বন্ধ হতে পারে।
এই নৌ-পথটি নিরাপদ করতে সরকারের কত টাকা ব্যয় হবে। সরকারী যে কয়েকটি সংস্থা এই ঘাটের সাথে সম্পৃক্ত সেই কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এই নৌ-পথ আধুনিক ও নিরাপদ নৌ-রুট হতে পারে।
কুমিরা-গুপ্তছড়া এই ঘাটের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে রাষ্ট্রের তিন সেবা সংস্থা যথা- বিআইডবøউটিএ, বিআইডবøউটিসি ও জেলা পরিষদ। এই সংস্থাগুলোর রশি টানাটানির বলি হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। স্বল্প মেয়াদী ইজারা প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে জেলা পরিষদকে।
এ-বিষয়ে সম্প্রতি এই ঘাট ইজারা নিতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ থেকে ফরম নেয় ব্রান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা খোকন। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা দিলে তিনি এই জনপদে মানুষের কল্যাণে সকল আধুনিকায়ন অবকাঠামো নির্মাণ করবেন কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে।
সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়: কোস্টাল ইঞ্জিনিয়ার কর্তৃক ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হবে। দুইপাশে ভাসমান জেটি দিতে হবে। টেকসয় পল্টুন করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা দিতে হবে। ইজারা উন্মুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ একের অধিক এজারাদার নিয়োগ প্রথা চালু করতে হবে। ঘাট নিয়ে মামলাটির দ্রæত নিষ্পত্তি করতে হবে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট থেকে দৈনিক নব্বই হাজার টাকা খাস কালেকশন বন্ধ করতে হবে। সেবা ও জনস্বার্থে এই ঘাটে আধুনি ও দ্রুতগামী নৌ-যানের ভাড়া ১০০ টাকা ও জাহাজের ভাড়া ৫০ টাকা করতে হবে এবং এটা সংসদে বিল আকারে পাশ করতে হবে।  
আধুনিক বাংলাদেশর রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ছাড়া দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই জনপদের দুর্ভোগের একমাত্র সমাধান করতে পারেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর হাত ধরেই আসতে পারে এই নৌ-যাতায়াতে সুদিন।