আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪ || ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
রবিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪   |   sonalisandwip.com
উড়িরচরে ৩ দিন ব্যাপী গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কিত প্রচারণা সম্পন্ন

রহিম মোহাম্মদ ;; সোনালী সন্দ্বীপ ::

প্রান্তিক জনগোষ্ঠির বিচারিক সেবা নিশ্চিত করণে সন্দ্বীপ উপজেলায় গ্রাম আদালতের  কার্যক্রম প্রচারণার ধারাবাহিক কার্যক্রমে গত ৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচরে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ক ৩দিন ব্যাপী প্রচারণা কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায় ) প্রকল্প এর আওতায় এ প্রচারণা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় ছোট খাটো দেওয়ানী ও ফোজদারি বিরোধ (যার মূল্যমান ৭৫ হাজার টাকার নীচে)  স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নিস্পত্তির লক্ষ্যে সরকার ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত আইন প্রণয়ণ করেন। ২০১৩ সালে এ আইনটি সংশোধন করা হয় এবং ২০১৬ সালে গ্রাম আদালত বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন ও বিধিমালা  অনুযায়ী গ্রামীণ ছোট খাট দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিরোধ  স্থানীয় ভাবে  নিস্পত্তির অন্যতম বিচারিক কাঠামো গ্রাম আদালত।

এ আদালতে প্রতিটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার শুরু হতে নিস্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের জন্য গ্রাম আদালত বিধিমালা ২০১৬ অনুযায়ী ফরমস ও রেজিস্টার এর মাধ্যমে  যথাযথ  প্রক্রিয়ায় নথিপত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণ আবশ্যক। গ্রামীন জনগণের দৌড় গৌড়ায় বিচারিক সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতার সাথে ন্যায় বিচার ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত গ্রাম আদালতের ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া।  

গ্রামের সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠি নামমাত্র ফিস দিয়ে (দেওয়ানী মামলার ফিস ২০টাকা,ফৌজদারী মামলার ফিস ১০ টাকা) কম সময়ে, কম খরচে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচারিক সেবা নিয়ে উপকৃত হবার সুযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বিরোধ সমূহ নিয়ে জেলা আদালতে জনগণকে দৌঁড়াতে হবে না--হতে হবে না কোন রকেমের হয়রানির শিকার। এতে করে জনসাধারণ যেমন স্বাচ্ছন্দে বিচারিক সেবা পাবেন তেমনি উচ্চ আদালতে মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে ও ভূমিকা রাখবে গ্রাম আদালত । কিন্তু গ্রাম আদালত আইন,বিধিমালা এবং এ আদালতের সেবা সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সদস্য,সচিব ও গ্রামীন সাধারণ জনগণ সচেতন নয়। ফলে এলাকার জনগণ  সেবা পেতে যেমন পারছেন না তেমনি ইউনিয়ন পরিষদও যথাযথ ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশে গ্রাম আদলত সক্রিয় করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগি সংস্থা হিসেবে ইপসা (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল  এ্যাকশন কাজ করছে। গত ১ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকালে  উড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচারিক কাজে গ্রাম পুলিশদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার  বিকেলে উড়িরচর কলোনী বাজারে গ্রাম আদালতের প্রচারণা বিষয়ক নাটক বাড়ির কাছে গ্রাম  আদালত (ভিডিও) প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার বেলা ১১.০০টায়  উড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ,সচিব সদস্যদের নিয়ে গ্রাম আদালত আইন ,বিধিমালা ও গ্রাম আদলতের ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন  উড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত)জনাব মো: আব্দুর রহিম।

এছাড়া ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জনাব কাজী মো: মেহরাজুল ইসলাম সহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওগণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ওরিন্টেশনে সেশন পরিচালনা ও প্রচারনা কার্যক্রম সমন্বয় করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প ও ইপসার উপজেলা সমন্বয়কারি জনাব মো: মহিউদ্দীন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ ও উপজেলা  প্রশাসনের সাবিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে গ্রাম আদালত বিষয়ক এ রকম প্রচারণা কার্যক্রম সন্দ্বীপ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।